গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরসাদী ইউনিয়ন যুগুলী গ্রাম এ ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে এক কিশোরকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পরে ওই কিশোরের বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও নারী নির্যাতনের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
আহত কিশোরের নাম মোঃ দোলন শাহ (১৫)। তিনি জুগুলী গ্রামের বাসিন্দা শাহিন আলমের ছেলে। বর্তমানে তিনি কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে জুগুলী খেলার মাঠে ক্রিকেট খেলার সময় সাব্বির হোসেন (২২), রিফাত হোসেন (২০), সামিউল (২২), মারুফ হোসেন (২৩)সহ আরও ৮–১০ জন দোলনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। প্রতিবাদ করলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা জখম করা হয়।
এরই জেরে ওইদিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র, লাঠি ও রড নিয়ে দোলনের বসতবাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় দোলনের মা ফারজানা আক্তার (৩৩) বাধা দিলে তার পরিহিত পোশাক টেনে শ্লীলতাহানি করা হয়। পরে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ১ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় সাব্বির হোসেনের হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে দোলনের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করা হলে সে হাত দিয়ে ঠেকাতে গিয়ে ডান হাতের কনুইয়ে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং একই সময় মারুফ হোসেন দোলনের গলা চেপে ধরে ও বুকে লাথি মেরে তাকে হত্যার চেষ্টা করে।
চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে দোলনকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় (রেজিস্ট্রেশন নং- ২৫০১/১৯)।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা শাহিন আলম কালীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।