Breaking News

৬ ডিগ্রিতে নেমেছে চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা: হাড়কাঁপানো শীতে থমকে গেছে জনজীবন

বশিরুল আলম,আলমডাঙ্গা, (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) থেকে : দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। হাড়কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশায় কার্যত থমকে গেছে মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রম। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না অনেকেই। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ।
বুধবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে স্থানীয় প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল প্রায় ৯৫ শতাংশ। চলতি শীত মৌসুমে এটিই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
ভোর থেকেই শহরের বিভিন্ন মোড়, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও চায়ের দোকানের সামনে আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম করতে দেখা গেছে নিম্ন আয়ের মানুষদের। অনেকের ভাষায়, প্রচণ্ড শীতে স্বাভাবিকভাবে কাজ করাই এখন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকরা জানান, ভোরে কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলেই হাত-পা অবশ হয়ে আসে। মনে হয় যেন বরফের ভেতরে দাঁড়িয়ে আছি। তবুও জীবিকার তাগিদে কাজে বের হতে হয়। অনেক সময় কাজ না পেয়ে শীতের মধ্যেই খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।
তীব্র শীতের প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্য খাতেও। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। চিকিৎসকদের মতে, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের মধ্যে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়ার মতো রোগের প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে।
শীতের কষ্টে বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরাও। ভোরে প্রাইভেট পড়তে যাওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে যানবাহনে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে হেঁটে যাতায়াত করছে।
এক শিক্ষার্থী বলেন, “আগে ভ্যান বা ইজিবাইকে যেতাম। এখন শীতের কারণে সেগুলোতে উঠতে কষ্ট হয়। হেঁটেই যেতে হচ্ছে। হাত-পা খুব ঠান্ডা হয়ে যায়, তবে হাঁটলে শরীর কিছুটা গরম হয়।”
শীতের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। ব্যবসায়ীরা জানান, বেলা ১১টার আগে খুব একটা ক্রেতা বা গ্রাহকের দেখা মিলছে না। শীতের প্রভাবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও লেনদেন স্বাভাবিকের তুলনায় কমেছে।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামিনুর রহমান জানান, জেলার ওপর দিয়ে আগামী ১১ অথবা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল শীতার্ত মানুষের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ জোরদারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে দুর্বল ও অসহায় মানুষগুলো কিছুটা হলেও স্বস্তি পায়।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত